মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

শ্যাম বাউল গোস্বামীর আখড়া

শ্রী শ্রী শ্যাম বাউল গোস্বামী ছিলেন ইষ্ট সাধনায় সিদ্ধি লাভে সমর্থ, অলৌকিক শক্তি লাভের অধিকারী, যুগসিদ্ধ এক মহা পুরুষ। শ্রী শ্রী রাম কৃষ্ণ গোস্বামীর নিকট দীক্ষা লাভ করে বৈষ্ণব ধর্ম প্রচারের জন্য তিনি বানিয়াচং আসেন। অনেক বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে অবশেষে যাত্রাপাশা মহল্লায় তিনি আখড়া প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি অসহায় ব্যাধিগ্রস্ত জীবের পরিত্রাণকারী হিসেবে মানুষের অন্তরে স্থান করে নিয়েছিলেন। শ্যাম বাউলের বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে ও ভারতে অনেক ভক্ত ও শিষ্য রয়েছে। প্রতি বছর আখড়ার সন্নিকটে তাঁর স্মরণে চৈত্র মাসে অষ্টমী স্নান মেলা অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর জন্ম ও মৃত্যু স¤পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

শ্যাম বাউলের আখড়াঃ শ্যাম বাউল নামে এক বৈষ্ণব কর্তৃক এ আখড়াটি দীর্ঘকাল পূর্বে প্রতিষ্ঠিত হয়। বানিয়াচঙ্গের সর্বদক্ষিণে যাত্রাপাশা দক্ষিণ প্রান্তে এ আখড়াটি অবস্থিত। শ্যাম বাউল জগন্মোহনী বৈষ্ণব ধর্মানুসারী ছিলেন। লাখাই উপজেলার বাঘাসুরা নিবাসী জগন্মোহনী গোসাঞি প্রায় তিনশত বৎসর পূর্বে এ ধর্মের প্রবর্তন করেন। এ ধর্মমতে গুরুকে প্রত্যক্ষ ভগবান জ্ঞানক্রমে গুরুকেই উপাস্য হিসাবে বিবেচনা করা হয। এরা কোন মূর্তিপূজা করেনা, জাতিভেদে বিশ্বাস করেনা এবং তত্ত্বগতভাবে পুরুষদিগের ব্রহ্মচর্য অবশ্য পালনীয়। তবে জগন্মোহিণী সমপ্রদায়ের লোকজন নিজেদেরকে বৈষ্ণব হিসাবে অভিহিত করলেও, বৃন্দাবন কর্তৃক তাদের ধর্মমত বৈষ্ণব ধর্ম হিসাবে বিবেচিত নয়। ( চৌধুরী, অচ্যুতচরণ, ২০০৪, পৃ ১৩৪)। স্থানীয়ভাবে এ সম্প্রদায়ের লোকজনকে বৈরাগী বলে আখ্যায়িত করা হয়। কৈবর্ত সমাজে এ ধর্মের প্রচলন সমধিক। শ্রী শ্রী শ্যামবাউলের আখড়ায় নিত্য আধ্যাত্মিক গান-বাজনা কীর্তন অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। প্রতি বৎসরান্তে সেখানে বারুণী উপলক্ষে হিন্দু-মুসলিম উভয় সমপ্রদায়ের বহুলোক সমাগম হয়। অনেকের বিশ্বাস শ্যামবাউলের আখড়ার বারুনী উপলক্ষে অপরাহ্নে অতি-অবশ্য ঝড়-তুফান হয়ে থাকে।

কিভাবে যাওয়া যায়:

উপজেলা পরিষদ হতে নতুন বাজার হয়ে রিক্সা বা সিএনজিযোগে যাওয়া যায়।